বিসর্জন: ফিল্ম সমালোচনা
- Apr 19, 2017
- 1 min read
** বিসর্জন ** .................. ................কৌশিক গাঙ্গুলী।
আমি সচরাচর রিভিউ লিখি না। সে বই হোক বা সিনেমা। কিন্তু এই প্রথমবার লিখছি। তাই ভুল ত্রুটি হলে নিঃসন্দেহে ক্ষমা করে দেবেন। প্রথমেই বলি টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এরকম ভাঁটা প্রবণ পরিস্থিতিতে কৌশিকবাবুর এমন একটি ছবি যেন সত্যিই জোয়ারের ইঙ্গিত। শুধু চিত্রনাট্য বা পরিচালনা নয়, সঙ্গে অভিনয় ও কাহিনীকারও স্বয়ং কৌশিক গাঙ্গুলী! ইছামতীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কাহিনীতে কৌশিকবাবু তাঁর নিজস্ব শৈলীতে অসাধারণ ভাবে দর্শককে ভাসিয়েছেন দুই বাংলার নস্টালজিয়ায়। বাঙাল ভাসার টানে বাংলাদেশের পটভূমিতে সম্পূর্ণ কাহিনীটি তুলে ধরেছেন। পদ্মার বেশে জয়া আহসান এবং এক মুসলমান যুবক নাসের আলির ভূমিকায় আবীর চট্টোপাধ্যায়-এর অভিনয় ছবির অন্যতম মূল সম্পদ। জীবনানন্দের বাংলাদেশ তাঁর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এক আকাশে চাঁদ ও সূর্যকে তুলে ধরার মুহূর্তগুলো অনবদ্য শৌভিক বসুর চিত্রগ্রহণে। ছবির শুরু ঠাকুর ভাসান দিয়ে হলেও সম্পূর্ণ সিনেমাটা জুড়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানে নিয়ে সামনে আসে 'বিসর্জন'। ধর্ম-বিভেদ-প্রেম-ভালোবাসার সমস্ত মুহূর্ত ছুঁয়ে গিয়েছেন পরিচালক। ছবির বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে কালিকাপ্রসাদ ও দোহার-এর লোকগান তাঁদের শেষ শ্রেষ্ঠ কাজ। নচিকেতা চক্রবর্তীর গলায় একটি গান আমার দারুণ লেগেছে। ছবি ও তাঁর গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঙ্গীত ছবিটিকে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত করে তুলেছে। শেষে বলি, ছবির গল্পটা ইচ্ছে করেই বললাম না ওটা সিনেমাটা দেখে জানাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদিও ছবির গল্প সবসময়ই প্রাসঙ্গিক, তবু কেন জানিনা মনে হয়েছে ছবিটি বিজয়ার সময় মুক্তি পেলে আরও ভালো হত। ধন্যবাদ জানাই কৌশিক গাঙ্গুলীকে এমন একটি ছবি উপহার দেওয়ার জন্য।






Comments